রাতের ইবাদত আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। রাতে যেকোনো নফল ইবাদতের গুরুত্ব বেশি। তাহাজ্জুদের মতো মহান ইবাদতও রাতে সীমাবদ্ধ। এজন্যই পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই রাতে জাগরণ ইবাদতের জন্য গভীর মনোনিবেশ, হৃদয়ঙ্গম এবং স্পষ্ট উচ্চারণে অনুকূল।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল: ৬)
পূর্বসূরি মুসলিম মনীষীরা রাতের ইবাদতে জোর দিতেন। এতে সওয়াব বেশি, আবার গুনাহেরও কাফফারা হয়। আবু উমামাহ (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই রাতে ইবাদত করবে। কারণ এটা তোমাদের আগের নেককারদের অভ্যাস। এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় আর পাপের কাফফারাস্বরূপ। (তিরমিজি: ৩৬১৯) ।
জামাতের সঙ্গে ফজর ও এশার নামাজ আদায়
উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে তার জন্য অর্ধরাত (নফল) নামাজ আদায়ের সওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে তার জন্য সারা রাত (নফল) নামাজ আদায়ের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। (তিরমিজি: ২২১)।
রাতে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলাওয়াত
আবু মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘সুরা বাকারার শেষে এমন দুটি আয়াত রয়েছে যে ব্যক্তি রাতের বেলা আয়াত দুটি তেলাওয়াত করবে তার জন্য এ দুটি আয়াত যথেষ্ট’ (বুখারি: ৪০০৮)। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, অর্থাৎ এই দুটি আয়াত সারা রাত ইবাদতের সওয়াব প্রাপ্তিতে যথেষ্ট।
রাতে ১০০ আয়াত তেলাওয়াত
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতের বেলায় এক শ আয়াত পড়ে, তার আমলনামায় পুরো রাত ইবাদত করার সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে। (ইবনে খুজাইমাহ: ১১৪২)।
তাহাজ্জুদের নিয়তে ঘুমানো
আবু দারদা (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার নিয়তে বিছানায় আসে, কিন্তু তার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা প্রবল হয়ে যাওয়ায় ভোর পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে থাকে, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লেখা হবে, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তার নিদ্রা তার জন্য সদকাস্বরূপ হয়ে যাবে। (সুনানে নাসায়ি: ১৭৮৭)।